পর্ব ১
**** ডিভোর্স পেপার সামনে আর কলম হাতে নিয়ে একবার তার স্বামী নিরবের দিকে তাকায় তন্নি। নিরব যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন তন্নি সাক্ষর করবে পেপারে। তন্নি মেকি হাসে এতোটাই অসহ্যকর হয়ে গেছে সে যে তার থেকে মুক্তি পেতে অস্থির হয়ে আছে।
আর কিছু ভাবলো না সে আর কারো দিকে তাকালো না। নিজের চোখের পানি মুছে কলমটা শক্ত হাতে ধরল। হাত কাপছে তার বুকটা ভার হয়ে গেছে। মাথাটা দু পাশে ঝাকিয়ে ডিভোর্স পেপারটা কাছে নিয়ে সাক্ষর কর দিল। অবশেষে বিচ্ছেদ ঘটে গেল তাদের। তন্নির চোখ দিয়ে দূ ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল।
নিরব খুশিতে উঠে দাড়ালো। তার মুখে যেন বিজয়ের হাসি। তন্নি অবাক হলো একটা সময় এই ছেলেটার পাগলামোতেই তন্নির পরিবার রাজি হয় তন্নিকে ওর সাথে বিয়ে দিতে। আজ সেই ছেলেটাই তন্নির থেকে মুক্তি পেয়ে কতটা খুশি।
তন্নি উঠে দাড়ালো তন্নির বাবা তুষারের দিকে তাকিয়ে বলে–“বাবা চলো যাওয়া যাক।”
তুষার নিজের মেয়ের দিকে তখনও তাকিয়ে আছে। মেয়েটার কতটা কষ্ট হচ্ছে তা সে বাবা হয়ে অনুভব করতে পারছে। ২ বছরের সম্পর্কের জন্য নিরব ৪ বছরের সংসার ভেঙ্গে দিল।
তুষার তন্নির হাতটা শক্ত করে ধরল নিরবের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,–” আজকে যেই মেয়ের জন্য আমার মেয়েকে ঠকাইছো একদিন সেই মেয়ে তোমাকে কাঁদাবে। ”
তুষারের কথায় নিরব উচ্চ স্বরে হেসে উঠে। তুষার কপাল কুচকে ফেলে। নিরব হাসি থামিয়ে বলে,–” তাই নাকি এক্স শ্বশুরমশাই।”
তন্নি ঘৃণায় নাক চিটকায়। তুষার রাগি গলায় নিরবের দিকে আঙ্গুল তুলে বলে,–” বেয়াদব ছেলে একদিন তুমি এসে আমার মেয়ের পায়ে ধরবা যেন সে তোমার জীবনে আবার ফিরে আসে।”
তুষার আর দাড়ায় না তন্নিকে নিয়ে চলে যেতে শুরু করে। নিরব সেখান থেকে দাড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে,–“আপনার ঐ সেকেন্ড হ্যান্ড মেয়ের কাছে নিরব কখনো যাবে না।”
এই কথা কানে যেতেই তন্নির ইচ্ছে করে মরে যেতে। তুষার আর এক সেকেন্ড ও সেখানে দাঁড়ায় না তন্নিকে নিয়ে চল আসে।
————
তন্নি চলে যেতেই নিরব ফোন বের করে নিজের গার্লফ্রেন্ড বৃষ্টিকে কল দেয়। দুই তিনবার রিং হওয়ার পর কল রিসিভ করে বৃষ্টি।
–” হ্যালো।”
বৃষ্টির গলা শুনে বা পাশে বুকে হাত দিয়ে নিরব বলে,–” হায় কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেল।”
নিরবের কথায় বৃষ্টি হালকা হেসে বলে,–” কি বলবে বলো”
নিরব বলল,–” বলতে তো অনেক কিছু ইচ্ছে করে মেরি জান কিন্তু এখন আপাতত বলতে চাইছি যে তোমার পরিবারের কাছে আমার পরিবার কালকে আসবে।”
বৃষ্টি খুশি হয়ে বলে,–” সত্যি! ”
নিরব বলল,–” হুম।”
বৃষ্টি উৎসুক হয়ে বলল,–” তার মানে তোমার ডিভোর্স হয়ে গেছে? ”
নিরব বলল,–“হ্যা।”
বৃষ্টি খুশিতে ফোনের অপাশে লাফিয়ে উঠলো। এটা বুঝতে পেরে নিরব হাসলো। বৃষ্টি নিজেকে সামলে বলে,–” অপেক্ষায় থাকবো কাল বাই।”
নিরবও বাই বলে কেটে দিল কল। অবশেষে তার ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে। নিরবের মা রুনা এসে নিরবের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,–” বৃষ্টি মেয়েটা অনেক ভালো। বেশ করেছিস এই তন্নি শাঁকচুন্নিকে ডিভোর্স দিয়ে। তোর বাবা থাকলে আজ তিনি খুশি হতেন।”
মায়ের কথায় নিরব রুনাকে জড়িয়ে ধরে বলল,–” আমি জানি তো মা।”
নিরবের বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। শুধু তার মা বেচে আছে। নিরবের আর কোনো ভাই বোন নেই।
——————
রান্নাঘরে দাড়িয়ে রান্না করছে তন্নি তার পাশেই তার মা মিশমি তার দিকে তাকিয়ে আছে। তন্নি গম্ভীর গলায় বলে, –” কি হয়েছে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?”
মিশমি কান্না ভেজা গলায় বলে, –” দেখছি আমার ছোট মেয়েটা কত বড় হয়ে গেছে যে মায়ের কাছে থেকেও নিজের কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখছে।”
তন্নি চট করে চোখ বন্ধ করে নেয়। গলাটা কেমন ধরে আসল তার ঠোঁট দুটো কাঁপছে। তন্নি নিজেকে সামলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে মায়ের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে।
মিশমি কিছু বলে না তন্নিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে। কাদুক না মেয়েটা কাদলে মনটা হালকা হবে। তন্নি কিছুক্ষণ কান্না করে নিজেকে সামলে সোজা হয়ে আবার রান্নার দিকে মনযোগ দেয়। মিশমি নিজের গলা ঝেড়ে বলে– ” মা নিজের জীবনটা আবার সাজা নতুন করে। ”
তন্নি কাপা কাপা গলায় বলে,–” সাজাবো মা একটু সময় দাও।”
মিশমি কিছু বলে নাহ। তুষার তখন বসার ঘরে বসে ছিল। মিশমি গিয়ে তার পাশে এসে বসে। তুষার মিশমির দিকে তাকিয়ে বলে– ” মেয়েটা সামলাতে পারবে তো?”
মিশমি আশ্বাস দিয়ে বলে– “চিন্তা করো না তন্নি সামলাতে পারবে। ”
তুষার কিছু বলে না মিশমির হাতটা শক্ত করে ধরে রাখে। তন্নির জীবনের এই ঘটনার জন্য তুষার নিজেকে দায়ী ভাবছে।
—————–
খাবার টেবিলে বসে আছে তন্নি,তুষার আর মিশমি। তন্নি স্বাভাবিক আচরণই করছে। তন্নি মা বাবার দিকে তাকিয়ে বলে– ” কি হলো খাচ্ছো না যে!”
তন্নির কথায় মিশমি তার দিকে তাকায় মাথা নাড়িয়ে বুঝায় কিছু হয় নি। তন্নি বুঝতে পারে বিষয়টা। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তন্নি দুজনকেই বলতে থাকে, –” মা বাবা প্লিজ তোমরা স্বাভাবিক হও। তোমরা এমন বিহেভ করলে আমি স্বাভাবিক জীবন এ ফিরবো কি করে? তোমরা এভাবে মন খারাপ করে থাকলে তোমাদের দেখে বার বার আমার ঐ ঘটনা মনে হবে। আর যা ঘটে গেছে তা তো আর মন খারাপ করে ফিরিয়ে আনতে পারবে না।”
মিশমি আর তুষার দুজনই ভাবে সত্যিই তো যা ঘটে গেছে তা তো বদলানো যাবে না। তন্নিকে স্বাভাবিক রাখতে হলে তাদের স্বাভাবিক থাকতে হবে।
——————–
সকাল ১১ টা বাজে তন্নির ফোনটা ভেজে উঠে। তন্নি রান্না ঘর থেকে ছুটে আসে। ফোন হাতে নিয়ে দেখে বড় বড় অক্ষরে নিরব লিখা। তন্নি চমকে যায় শ্বাস ঘন হয়ে আসে বুক ধরফর করতে থাকে।
ফোন রিং হতে হতে ফোন কেটে যায় তন্নি ফোন ধরে না। আবার ফোনটা বেজে ওঠে এবারও নিরব কল দিয়েছে। তন্নি একটা বড় শ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে ফোনটা রিসিভ করে ঝাঁজালো গলায় বলে,–“কি হয়েছে কল দিচ্ছেন কেন?”
নিরব বিরক্তিকর হাসি দিয়ে বলে– ” ওহ হ্যালো তোর মতো মেয়ের সাথে পিরিত করতে কল দেই নি।”
তন্নি বিরক্ত নিয়ে বলে,–” কি বলবে বলো?”
নিরব হেসে বলে,–” আজকে তো আমার আর বৃষ্টির বিয়ের তারিখ ঠিক হবে।”
তন্নি মেকি হেসে বলে,–” ভালো তো। আচ্ছা রাখি আমার কাজ আছে। ”
তন্নি নিরবকে আর কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দেয়। বুকটা খুব যন্ত্রণা করছে। পাশে থাকা গ্লাসের পানিটা ঢকঢক করে শেষ করে ফেলে দম নেয় সে। ফোনটা অফ করে দিয়ে একটু স্বাভাবিক হয়ে বাহিরে যায়।
বাহিরে আসতেই মিশমি জিজ্ঞেস করে, –“কি হয়েছে এত দেরি করলি যে।”
তন্নি মাথা নাড়িয়ে কিছু না বলে আবার নিজের কাজে মন দেয় সে। নিরব কল দিয়েছে ব্যাপারটা লুকিয়ে গেল। মা বাবা জানতে পারলে শুধু শুধু চিন্তা করবে। তন্নি ভয়ে আছে আবার যদি নিরব কল দেয় ও নিজেকে আর সামলাতে পারবে না। তাই আজ তুষার আসলে সে তার বাবাকে বলবে নতুন সিম কিনে আনতে।
—————-
বিকেলের দিকে তুষার বাসায় আসে। আজ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে চলে আসে। তখন বেলা ৪ টা বাজে মিশমি হালকা খাবার বানিয়ে আনে বিকেলের জন্য। তুষার আর তন্নি বসে টিভি দেখছিল। টিভি দেখতে দেখতে তন্নি বলে,–“বাবা আমাকে একটা নতুন সিম কিনে দিও।”
তুষার বলে,–“আচ্ছা। ”
তন্নি আর কিছু বলে না বাবার কাঁধে মাথা রেখে বসে থাকে। তুষারও কিছু বলে নাহ চেয়েছিল জিজ্ঞেস করতে নিজের জীবন নিয়ে কি চিন্তা করলো কিন্তু করলো না সে মনে করে তন্নিকে আরো সময় দেওয়া উচিত।
হঠাৎ তন্নি পড়ে যায় বসা থেকে। তুষার আর মিশমি আৎকে উঠে। তন্নি ফ্লোরে পড়ে যায় তার হাত পা কুচকে আসতে থাকে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। মিশমি দৌড়ে যায় পানি আনতে আর তুষার তন্নিকে তুলে সোফায় শুইয়ে দেয়।
অনেক্ষণ পানি ঢালার পর তন্নি স্বাভাবিক হয়। তুষার চিন্তিত হয়ে বলে,–” তুই ঠিক আছিস তো? হঠাৎ এমন হলো কেন?”
তন্নি সোজা হয়ে বসে হালকা দম নেয় তারপর বলতে থাকে, –“এটাই প্রথমবার নাহ এর আগেও অনেকবার হয়েছে এমন। প্রথম হয়েছিল এমন সেইদিন যে দিন নিরব আর বৃষ্টির প্রেমের বিষয়ে জেনে ছিলাম। ”
তুষার চিন্তিত গলায় বলে, –” ডাক্তার দেখাস নি?”
তন্নি না করল। তুষার চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস নিয়ে জানালো কাল হসপিটালে ডাক্তার দেখাতে যাবে।
পর্ব ২
পর্ব ২
**** ডাক্তারের চেম্বারে বসে আছে তন্নি আর তুষার। ডাক্তার মাথায় হাত রেখে চিন্তা করছে এমনটা ওর সাথে কেন হয়। তুষার গলা ঝেড়ে জিজ্ঞেস করে, –“ডক্টর আমার মেয়ের কি সিরিয়াস কিছু হয়েছে?”
ডাক্তার মাথা সোজা করে তুষার সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে–,” এটা শ্বাস কষ্ট তো নয়। অস্বাভাবিক কিছু হলে ওর এই রোগটা ভাসে।”
তুষার সাহেব চিন্তিত গলায় বলেন,–” তাহলে?”
ডাক্তার বলেন,–” আচ্ছা আমি কিছু ঔষধ দিচ্ছি এগুলো খাওয়াবেন আশা করি ভালো হয়ে যাবে। ”
তুষার সাহেব কিছু বলল না শুধু মাথা নাড়ালো। ডাক্তারের কাছ থেকে ঔষধ প্রেসক্রাইব করে সেখান থেকে তন্নিকে নিয়ে চলে গেলেন তুষার সাহেব।
————–
নিরব আর বৃষ্টির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আর ২ দিন পর ওদের বিয়ে নিরব খুবই ব্যস্ত ব্যবস্থা করা নিয়ে তার উপর একটু পরপর সব কিছুর ছবি তুলে তন্নিকে পাঠাচ্ছে। নিরবের এই কাজটা করতে দারুন লাগছে সে যেন এই কাজটায় একটা পৈশাচিক আনন্দ পায়।
রুনা বেগম ফোনে বৃষ্টির সাথে কথা বলছিলেন। মেয়েটাকে তার দারুণ লেগেছে। কি সুন্দর মিষ্টি করে কথা বলে আর দেখতেও তন্নির থেকে ভয়াবহ সুন্দরী। নিরব কাজের সুত্রে রুনা বেগমের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। ছেলেকে দেখে রুনা বেগম নিজের কাছে ডাকেন। নিরব কাছে এসে বলল,–“কিছু বলবে মা?”
রুনা বেগম বললেন, –” আমার সোনা বাবা তোকে নিয়ে আমার গর্ব হচ্ছে। ”
নিরব বলল,–” ওমা তাই! কেন গো মা?”
রুনা বেগম বললেন, –” এই যে এমন একটা লক্ষী বৌ মা এনে দিচ্ছিস।”
মায়ের কথায় নিরব ঠোঁট মেলিয়ে হাসলো। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে–” খুব পছন্দ হয়েছে বুঝি?”
রুনা বেগম হেসে বলল,–” অনেক।”
আবার রুনা বেগম মুখ কালো করে বললেন –” একজন এনেছিলি বাজে চেহারা তার উপর শ্যামলা।”
নিরব বলল,–” ভুলটা শোধরে নিয়েছি তো।”
রুনা বেগম বললেন,–” হ্যা এটা আরেকটা ভালো কাজ করেছিস।”
নিরব হাসলো তারপর কাজের কথা বলে সেখান থেকে চলে গেল।
—————
বৃষ্টি আর তার বাবা বাবুল সাহেব আর মা তরি বেগম বসে আছেন তন্নিদের বাড়িতে। বুঝতে পারছেন না তো ওরা এখানে কেন? তন্নি আর বৃষ্টি একে অপরের বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল।
তুষার সাহেব বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, –“আপনারা এখানে কেন?”
বৃষ্টি উঠে বলে,–” আরে আঙ্কেল আমার বিয়ের কার্ড দিতে আসছি।”
তুষার সাহেব বিরক্ত হয়ে বলে,–” আমি কথাটা তোমাকে জিজ্ঞেস করিনি।”
বৃষ্টি কিছু বলে না আর। বসার ঘরে বাবার রাগী গলা শুনে তন্নি ছুটে বেরিয়ে আসে সেখানে। বসার ঘরে এসে বৃষ্টিকে দেখো অবাক হয়ে বলে–” তুই এখানে!”
ব্যস বৃষ্টি যেন এতক্ষণ এই মুহূর্তের অপেক্ষাতেই ছিল। উঠে গিয়ে তন্নিকে জড়িয়ে ধরে বলে,–” থ্যাংকস তন্নি নিরবকে আমার জন্য ছেড়ে দেওয়ার জন্য।”
তন্নি বিরক্ত হয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,–” তুই এখানে কেন এসেছিস? ”
বৃষ্টি গা জ্বলানো হাসি দিয়ে বলে– ” তোকে দাওয়াত দিতে। তুই কিন্তু অবশ্যই আসবি।”
তন্নি বুঝতে পারে বৃষ্টি তাকে কষ্ট দিতে এগুলো বলছে। কিন্তু তন্নি ওদের সামনে নিজেকে দুর্বল করবে না। তন্নি মুচকি হাসি দিয়ে বলে– ” হ্যা অবশ্যই আমি চেষ্টা করবো আসতে।”
বৃষ্টি মুখটা কালো হয়ে যায়। সে তন্নির চেহারাটা শুকনো দেখতে চেয়েছিল চোখ পানিতে টলমল করছে। কিন্তু হলো তো উল্টো টা তবে বৃষ্টিও থেমে থাকার মেয়ে না সে তার হাতে পড়ে থাকা একজোড়া বালা দেখিয়ে বলে,–” এগুলো নাহ আমাক শ্বাশুড়ি মা পড়িয়েছে।”
বালা গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখে এগুলো তার বালা ছিল এখন এগুলো অন্যের হাতে। তন্নি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,–” সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস। ”
বৃষ্টি কপাল কুচকে বলে,–” হোয়াট! ”
তন্নি হালকা হেসে বলে,–” খেয়ে যাবি তো।”
বৃষ্টি কিছু বলতে নিবে তন্নি তাকে পাত্তা না দিয়ে মিশমি জাহানের দিকে তাকিয়ে বলে– “মা ওদের নাস্তা দেও।”
মিশমি জাহান রান্নাঘরে চলে যায়। তন্নি জেদ নিয়ে সেখানেই বসে তাকে। বুকটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে তবু সে উঠবে না সেখান থেকে। সেখান থেকে চলে গেলে সবাই তাকে দুর্বল ভূববে। কিন্তু সে তো দুর্বল নয়।
——————-
অন্ধকার রুমে বসে আছে তন্নি। চোখ দুটো ফুলে গেছে কান্না করে। তুষার সাহেব আর মিশমি জাহান কেউ আসে নি ডাকতে তবে তারা বাহিরে দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দে দুজনই তাড়াতাড়ি করে ভিতরে ঢুকে।
ভিতরে ঢুকে দেখে তন্নি আবার অসুস্থ হয়ে গেছে। মিশমি জাহান দৌড়ে গিয়ে পানি এনে তন্নির মাথায় ঢালতে থাকে। বেশ অনেকটা সময় নিয়ে সে ঠিক হয়। তন্নিকে তুলে বিছানায় শুইয়ে দেয় তুষার সাহেব। অল্প খাবার খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দেয় তাকে। কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তন্নি তার বাবার হাত ধরে বলে,– বাবা একটা রিকুয়েষ্ট করবো।”
তুষার সাহেব মেয়ের হাতের উপর হাত রেখে বলে,–” কি বলবি বল?”
তন্নি সোজা হয়ে বসে বলতে থাকে,–” আমি কাজ করতে চাই এই ট্রমা থেকে আমাকে কাজই মুক্তি দিতে পারবে।”
তুষার সাহেব এতে বাধা দেয় না। মেয়ে নিজে কিছু করতে চায় করুক নাহ। মেয়েকে আশ্বাস দিয়ে ঘুমাতে বলে কপালে চুমু দিয়ে চলে যায় তারা।
—————-
সকাল ৭ টা বাজে ওয়াশরুমে শাওয়ার ছেড়ে তার নিচে দাঁড়িয়ে আছে রাদ চৌধুরী। একটু দূরের টেবিলে রাখা আছে একটা ল্যাপটপ। সে তার মেনেজারের সাথে কথা বলছে অডিও কলে। চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে ভীষণ রেগে গেছে। রাগী গলায় সে তার মেনেজারকে বলে,–” ওকে বের করে দাও আর বিজ্ঞাপন দিয়ে দাও যে রাদ ফ্যাশন ডিজাইনে নতুন পিএ লাগবে। ”
মেনেজার সজীব ভয় ভয় গলায় অপর পাশ থেকে বলল,–” জ্বী স্যার।”
কল কেটে দিল। প্রায় অনেক্ষণ শাওয়ার নিয়ে রুমে আসে ল্যাপটপ হাতে নিয়ে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৭:৪০ বাজে। জলদি রেডি হয়ে নিচে আসে রাদ।
নিচে এসে দেখে তার ৩ বছরের মেয়ে রাইদা বসে আছে ডাইনিং এ। রাদ মিষ্টি হেসে ডাইনিং এ গিয়ে বসে পড়ে। রাইদা বাবাকে দেখে এক লাফে তার কোলে। রাদ জড়িয়ে ধরে বলে,–” আমার প্রিন্সেস কখন আসলো।”
রাইদা বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলে– ” ইপ্পি ( ফুপ্পি) রেডি করিয়ে দিয়েছে। ”
রাদের বোন রাধিকা খাবার প্লেটে করে রাদের সামনে দিল। রাদ নিজেও খেল রাইদাকেও খাওয়াতে লাগলো। খাওয়ার মাঝে রাধিকা বলল,–“ভাই তোর রাইদার জন্য হলেও একটা বিয়ে করা উচিৎ।”
রাদ বিরক্ত হয়ে বলে,–” দেখ এইসকল বিষয়ে আমি তোদের আগেও বলেছি এখনও বলছি আমি আর কোনো বিয়ে করবো না। ”
রাধিকা আর কিছু বলে না কিছু বলে লাভও নাই। রাদ একবার যা নলে দিয়েছে সেটাই। রাদ খাবার খেয়ে রাইদাকে নিয়ে চলে যায়। রাদের আপন বলতে তার ছোট বোন রাধিকা আর ওর মেয়ে রাইদাই আছে।
——————–
তন্নি বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখছে অনলাইনে। কিন্তু কোনো পোস্ট তার ভালো লাগছে না। হঠাৎ একটা বিজ্ঞাপনে তার চোখ যায় যা কিছুক্ষণ আগেই দেওয়া হয়েছে পিএ এর পদ। তন্নি সেখানে সিভি লিখে দিল। কিন্তু যখন সে রিলেশনশিপ স্টাটাস লিখতে গেল তখন তাকে ভাবালো সিঙ্গেল নাকি সে ডিভোর্সি দিবে। অবশেষে সব চিন্তা বাদ দিয়ে সে ডিভোর্সি দিল।
অ্যাপলিক্যাশন করা শেষে শস্তির নি:শ্বাস ফেলে সে।তারপর মায়ের কাছে যায় সে বাবা চলে গেছে কাজে। তন্নি গিয়ে দেখে মিশমি জাহান বিরিয়ানি রান্না করছে। তন্নি গিয়ে জিজ্ঞেস করে, –” কি করছো মা?”
মিশমি জাহান হেসে বলে,–” তোর জন্য বিরিয়ানি রান্না করছি। ”
তন্নি খুশি হয়ে যায়। বিরিয়ানি তার ভীষণ প্রিয়। মেয়েটাকে হাসি খুশি দেখে মিশমি জাহানের মনটা জুরিয়ে যায়। সত্যি বাবা মা বড় অদ্ভুত একজন। সন্তানের খুশিতে হাসে সন্তানের দুঃখে কাদে। মিশমি জাহান নিজের কাজে মন দেয়।
——
রাদ অফিসে নিজের রুমে বসে আছে পুরো শরীর ঘেমে একাকার। মাত্র নতুন কন্ট্রাক্টের ডিজাইন গুলো কালেক্ট করে এসেছে ডিজাইনারদের থেকে। এসিতে বসে সে ডিজাইন গুলো দেখতে থাকে আর তার পাশে সোফায় বসে রাইদা খেলছে। অফিসে রাদ রাইদাকে নিয়ে আসে কারণ রাধিকা সারাদিন কলেজে থাকে।
রাইদা তার পাপার দিকে তাকিয়ে বলে– ” বাবা নুর ( রাদের আগের পিএ) আঙ্কেল কোথায়? ”
রাদের মনে পড়ে গেল নুরের কথা তার বেইমানির কথা যে কি না তার সকল ডিজাইন চুরি করে অন্য কোম্পানিকে দিচ্ছিল। তাই তাকে বের করে দিয়েছে আর আজকে মেনেজার সজীব একটু আগে তার কাছ থেকে ছুটি নিয়ে গেছে কারণ তার বউকে ডাক্তার দেখাবে।
–” কি হলো পাপাই বলো?”
রাইদার কথায় ভাবনা থেকে বের হয়ে আসলো। রাদ হেসে মেয়েকে কোলে নিয়ে বলল,–” সে তো চলে গেছে আর আসবে না।”
ব্যস রাইদার কান্না শুরু হয়ে গেল কেন তার নুর আঙ্কেল তাকে ছেড়ে চলে গেছে। রাদ ব্যস্ত হয়ে পড়ে মেয়ের কান্না থামাতে। বেইমানরা সব সময় অতিরিক্ত মায়া লাগিয়ে বেইমানি করে। অজান্তেই রাদের ভিতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে।
পর্ব ৩
পর্ব ৩
*** ফ্যানের নিচে বসে আছে নিরব সারা শরীর ঘেমে গেছে তার। আজ তার আর বৃষ্টির বিয়ে। ফ্যানের নিচে এসে বসতেই রুনা বেগম এসে তাড়া দেয় গোসলে যেতে একটু পরই বের হতে হবে বরযাত্রী। নিরবও বাধ্য ছেলের মতো চলে যায় গোসলে।
গোসল করে এসে শেরওয়ানি পড়ে নিচে নেমে আসে। রুনা বেগম ছেলেকে দেখে চোখের নিচে থেকে কাজল নিয়ে নিরবের কানের নিচে লাগিয়ে বলেন,–” কারো নজর না লাগুক। ”
নিরব হেসে বলে,–” তোমার বৌমার নজর লেগে যাবে। ”
রুনা বেগম ছেলের গালে হালকা থাপ্পড় দিয়ে বলেন,–” মায়ের সাথে দুষ্টুমি হচ্ছে”
নিরব জোরে হেসে দেয় সাথে রুনা বেগমও। অতঃপর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ে নিরবরা বৃষ্টিকে আনতে।
————
তন্নি নিজের ফোনটা অনেক সাহস নিয়ে অন করে। ফোন অন হতেই অনেক গুলো নোটিফিকেশন আসে সবগুলো নিরবের মেসেজের। তন্নি সিন নাহ করেই ডিলিট দিয়ে দেয়। এমন কি আইডিটাও নষ্ট করে দেয়।
মিশমি নিজের ঘরে বসে ছিলেন। তখন তন্নি মন খারাপ করে তার ঘরে ঢুকে। মিশমি চিন্তিত হয়ে বলেন,–” কি হয়েছে মন খারাপ তোর?”
তন্নি বলে,–” আরেহ মন খরাপ নাহ তো টেনশন হচ্ছে কয়েকটা জায়গায় চাকরির এপ্লাই করেছি কিন্তু তারা যদি আমাকে না ডাকে।”
মিশমি মেয়ের কথা শুনে হাসেন। মেয়ের গাল দুটো টেনে বলেন,–” তুই সেই ছোট্ট তন্নিই রয়ে গেলি।”
তন্নি রাগ দেখিয়ে বলে,–“তোমারও আমার গাল ধরে টানার অভ্যাস গেলো না। ”
তারপর দুজনেই একসাথে হেসে দিল। মিশমি ভাবনায় মগ্ন হয়ে বললেন, –” তোর মনে আছে ছোটবেলায় এক্সামের আগে সারাটা রাত আমাকে জ্বালাতি একটু পর পর উঠে বলতি মা আমার এক্সাম ভালো হবে তো, কমন পরবে তো আরো কত প্রশ্ন।”
এটুকু বলে মিশমি হাসলেন। তন্নিও সাথে হেসে বলল,–” তো আমি কি করব প্রচুর চিন্তা হতো।”
দুই মা মেয়ে পুরনো স্মৃতির ডায়েরির পাতা উল্টাতে থাকে। পুরনো সব স্মৃতি মনে করে সব শেয়ার করে তন্নির মনটা ভালো লাগছে। নিজেকে সতেজ ও ফ্রেশ লাগছে। তন্নি মন খুলে একটা লম্বা শ্বাস নেয় মনটা হালকা করতে। সত্যি তার এখন ভালো লাগছে
—————
মাত্র অফিস থেকে ফিরলো রাদ। রাদ এসে ফ্রেশ হতে চলে গেলো আর রাইদাকে রিধি(রাধিকার পরিবর্তে রিধি দিয়েছি।) ফ্রেশ করিয়ে দিতে যায়।
রাদ ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসে। রাইদাকে রিধি খাইয়ে দিচ্ছে আর রাদ পাশে বসেই খাচ্ছে। রিধি বারবার রাদের দিকে তাকাচ্ছে আর কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। রাদ বিষয়টা বুঝতে পারে সে রিধিকে খাবার পরে সব গুছিয়ে ওর রুমে আসতে বলে। রিধিও মাথা নাড়ায়।
খাবার শেষে রাদ রাইদাকে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। রিধি সব কিছু গুছিয়ে রাদের কথা মতো তার রুমে যায়। রাদের রুমে গিয়ে দেখে রাইদা ঘুমিয়ে গেছে। রাদ রিধিকে দেখে ভিতরে আসতে বলে। রিধি রাদের কথায় চুপচাপ ভিতরে ঢুকে সোফায় বসলো তার পাশে রাদ হাত ভাজ করে সোফায় বসে বলল,–” কি বলতে চাইছিলি বল।”
রিধি নিচের দিকে তাকিয়ে বলে– “তুই কি আর আমার কথা শুনবি থাক বাদ দে।”
রাদ একটা ধমক দিয়ে বলে,–” কি বলতে চাইছিলি বল।”
রিধি আমতা আমতা করে বলে,–” বললে সেই তুই রাগই দেখাবি।”
রাদ চোখ পাকিয়ে বলে, –“দেখাবো না বল”
রিধি বুকের মাঝে অনেকটা সাহস করে বলে,–” ভাই তোকে এভাবে দেখলে আমার কষ্ট হয় সংসার নামক জিনিসটায় তোর এভার ঢুকা উচিত বিয়ে করা দরকার তোর কত একা থাকবি?”
রাদ চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস নিয়ে বলে,–” দেখ কোনো মেয়ে রাইদাকে মেনে নিবে না কোনো মেয়েই চাইবে না এক বাচ্চার বাবার সাথে বিয়ে করতে।”
রিধি বলে,–” কিন্তু রাইদা তো তোর নিজের……
রিধি কে থামিয়ে দিয়ে রাদ বলে,–“এটা শুধু তুই আর আমি জানি আর কেউ তো জানে না।”
রিধি বলে,–” তো কি হয়েছে জানাবো।”
রাদ বলল,–” জানিয়েছিলি তো একজনকে কি উত্তর পেয়েছিলি!”
রিধি বলল,–” সবাই একরকম না ভাই।”
রাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে–” হয়তো ওকে চেষ্টা করে দেখ। যা এখন ঘুমিয়ে পড় অনেক রাত হয়ে গেছে। ”
রাদের কথায় রিধি বলল,–” থ্যাংকস সুযোগটা দেওয়ার জন্য গুড নাইট। বাই”
রাদ হাত নাড়িয়ে গুড নাইট বলল। রিধি চলে যেতেই দরজা লাগিয়ে ভাসতে লাগলো চোখের সামনে পুরোনো কিছু স্মৃতি। চোখের চারটি লাশ আপনজনদের চোখ ঝাপসা হয়ে গেল রাদের তার সাথেই কেন এমন হলো। চোখ মুছে শুয়ে পড়ল বিছানায় রাইদার পাশে। রাইদাকে নিজের বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল রাদ।
—————–
জীবনের হিসাব মিলাতে ব্যস্ত তন্নি। হাতে তার ফোন যেখানে নিরবের ছবিটা ভেসে আছে। ঝাপসা চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে তন্নি। আনমনে বলতে থাকে,–” আমি তো তোমাকে ভালোবাসতে চাই নি, তোমাকে আমার করে পেতে চাইনি তুমিই তো এসে অনুভূতি জাগালে আমার মনে শিখালে কিভাবে ভালোবাসতে হয়। খুব আগলে নিজের করে নিলে কিন্তু এখন সেই তুমই বিচ্ছেদের বিষাক্ত স্বাদ অনুভব করাচ্ছো। যদি বিচ্ছেদই করার ছিল তাহলে কেন এতো মায়ায় জড়ালে আমাকে?”
কথা গুলো বলার সময় চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে ফোনের স্কিনে পড়ল। আরও কিছুক্ষণ তাকায় ছবির দিকে নাহ আর পারছে না কষ্ট হচ্ছে তার। ফোনটা সাইডে রেখে দিয়ে আকাশের দিকে তাকালো। আজ পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে ওহ! আজ তো নিরব আর বৃষ্টির বাসর রাত ভুলেই গিয়েছিল তন্নি। অনেক কষ্টে হালকা হেসে হাত তুলে বলে, –” সুখে থাক তোরা আমাকে যেভাবে ঠকালি তোরা না ঠকে যাস এভাবে!”
তন্নি আর দাড়ায় না বারান্দায় উঠে রুমে চলে যায়। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত ১ টা বাজে আর দেরি করে নাহ শুয়ে পড়ে সে।
——————-
খুব ভালো ভাবেই নিরব আর বৃষ্টির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। নিরবের বাসার ড্রয়িংরুমে বসে আছে বৃষ্টি আশে পাশে বাসার মহিলারা বউ দেখতে এসেছে কিন্তু অহংকারী বৃষ্টি কাউকে সালাম দেয় না। এতে মহিলারা ক্ষেপে গিয়ে বলে,–” যাই বলিস রুনা আগের বউ হয়তো তোর এই বউয়ের মতো সুন্দরী ছিল না কিন্তু আদব কায়দাটা এই বউয়ের থেকে হাজার গুণ ভালো ছিল। ”
বৃষ্টি ক্ষেপে গেল সে ভুলে গেল যে এই বাড়ির নতুন বউ। মহিলাদের মুখের উপর বলে দিল,–” বেয়াদব বউ দেখতে আসছেন কেন? বেরিয়ে যান এই বাসা থেকে। ”
মহিলাদের মধ্যে একজন এসে বললেন, –” এতো ভালো বউকে বিদায় করে এই বেয়াদব আনলি তোর কখনো আসবো না আমরা আর রুনা।”
রুনা বৃষ্টির আচরণে খুবই অসন্তুষ্ট হন মহিলাদের আটকানোর জন্য বলেন,–” আপা আপনারা বসেন যাবেন না।”
কিন্তু কেউ রুনার কথা শুনেন না। মহিলারা চলে যেতেই রুনা ক্ষেপে বৃষ্টির দিকে তাকায়। বৃষ্টি সেদিকে পাত্তা না দিয়ে সোজা চলে যায় নিরবের রুমে
রুনা খুবই কষ্ট পান বৃষ্টির এমন আচরণে। এখন এসে তার মনে হচ্ছে সে ভুল করেছে কিন্তু সে নিজের ভুল স্বীকার করতে রাজি নন। নিজে নিজেই বলতে থাকে, –“আমি কোনো ভুল করিনি। নতুন এসেছে তো তাই হয়তো বুঝতে পারে নি এমন আচরণ করে ফেলছে।”
ঘোমটা দিয়ে বসে আছে বৃষ্টি। নিরব রুমে ঢুকে এসে বৃষ্টির পাশে বসে। বৃষ্টি নিজেই নিজের ঘোমটা সরিয়ে বলতে থাকে,–” তোমার মায়ের বন্ধুরা এতো খারাপ আমাকে এত্তো গুলো কথা শুনিয়ে গেছে। ”
তারপর নিরবকে সব খুলে বলে। সবটা শুনে নিরব বলে,–” তেমার ঐখানে উত্তর দেওয়া উচিত হয় নি।”
নিরবের কথা শুনে বৃষ্টি রেগে বলে,–” মানে কি আমাকে কি মনে করছো ওরা এতো গুলো কথা বলল ও কিছু না আমি একটা উত্তর দেওয়াতে আমার ভুল হয়ে গেছে!”
বৃষ্টি অন্যদিকে ফিরে শুয়ে পড়ে নিরব ফুস করে একটা শ্বাস ছেড়ে বৃষ্টিকে নিজের দিকে ফিরিয়ে সরি বলে। কিছুক্ষণ রাগ করে থাকলেও একসময় নিরবের পাগলামোতে রাগ কমে যায়। আগে তন্নি এভাবে রাগ ভাঙ্গাতো আর এখন তার ভাঙ্গাতে হচ্ছে। মনের অজান্তেই নিরব দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
বৃষ্টি নিরবের কানের কাছে এসে বলে,–” তোমাকে লাগবে।”
বৃষ্টির কথায় নিরব বৃষ্টির অনেক কাছে যায়। গভীর ভাবে স্পর্শ করতে থাকে সে বৃষ্টিকে। আজ তাদের আনন্দের দিন বিশেষ বৃষ্টি যেন খুবই খুশি। তার আনন্দে আকাশে উড়তে ইচ্ছে করছে। সে তার পছন্দের মানুষটাকে ছিনিয়ে নিজের করতে পেরেছে। নিরবের প্রতিটা স্পর্শে সেও সাড়া দিতে থাকে।
